

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফটিকছড়ি : অর্থের বিনিময়ে জবর দখলকারীর পরিবর্তে ব্যবসায়ীকে দেয়া হয়েছে বন মামলা। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী এমন তুগলুকি কান্ডটি ঘটিয়েছে ফটিক ছড়ির হেয়াকোঁ বনবিট কর্মকর্তা মোঃ অলিউল ইসলাম। এর আগে গত বছরের ১২ জুন একই ধরনের ঘটনায় এক শিল্পোদ্যোক্তার বিরুদ্ধেও মামলা দেয়ার ঘটান তিনি। এমন অভিযোগ হেয়াকোঁ বাজার ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় সুত্র জানায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের আওতায় হেয়াকোঁ বনবিট এলাকায় গত বছরের ১২ জুন এবং চলতি মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারী জবর দখল উচ্ছেদের নামে পৃথক দুটি অভিযান চালায় বন বিভাগ। বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের দাঁতমারা রাবার অফিসের পশ্চিম পাশে কাঠাল বাগান এলাকাটি টিলা শ্রেনীর ভুমি। ১৯৭৬/৭৭ সালে এটিসহ প্রায় ৭ হাজার একর বনভূমি রাবার বাগানের জন্য বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করেন বন বিভাগ। স্বাধীনতার পর থেকে জায়গাটি জবর দখলকারীদের দখলে রয়েছে। সম্প্রতি বনবিভাগ জবর দখল মুক্ত করতে সেখানে পৃথক দুটি অভিযান চালায়। অভিযানে সেখানকার ঘেড়া বেড়া গুড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্ত বন বিভাগের বিশাল বহর নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে পরিচালিত বন কর্মকর্তাদের এ অভিযানের পর মুল জবর দখলকারীকে বাদ দিয়ে মামলা দেয়া হয় মো. এয়াকুব ও মজনু ডাক্তার নামের দুই শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় তারা দুজনই পৃথক সময়ে দলবল নিয়ে সেখানে ৬০০ ঘনফুট পাহাড়ের মাটি কেটে বনের ক্ষতি সাধন করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন এবং ভুমির খতিয়ান যাচাই করে দেখা যায় অভিযানের জায়গাটি টিলা ভুমি। এ ছাড়া মামলার এজাহারে দুটি অভিযানে ১২ শত ঘনফুট মাটি জব্দ দেখালেও বাস্তবে এসবের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মামলার আসামী মজনু বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম শহরে ছিলেন। তাঁর কাছে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিসি ফুটেজ রয়েছে। তিনি বলেন মামলা থেকে বাদ দিতে বনবিট কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম তাঁর কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। বিট কর্মকর্তার দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় তাঁর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় আজগর নামের অপর একজনের জবরদখলকৃত জায়গায় অভিযান চালালেও তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়নি। বিট কর্মকর্তা অলিউল ইসলাম আজগরের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে মজনুর নামে মামলা দায়ের করেন। অথচ আজগরের জবরদখলকৃত জায়গায় অভিযান পরিচালনাকালে বেশকিছু ফলজ আম গাছ কেটে ফেলে বিট কর্মকর্তা অলিউল ইসলাম। এদিকে গত বছরের জুনমাসে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আসামি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা এয়াকুব আলী বলেন, একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধেও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বিট কর্মকর্তা। অথচ কোনপ্রকার বনভূমি জবরদখল কাজের সাথে তাঁর কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। বন বিভাগের এমন আজগুবি মামলার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে বিট কর্মকর্তা মোঃ অলিউল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের নিয়মিত অভিযানে জবর দখল কারীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। মজনু ডাক্তার বা এয়াকুব আলীর কাছে টাকা দাবী করার বিষয়টি মিথ্যা ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন তিনি।
